“মা, আমি বের হলাম!”

মায়ের উত্তর না শুনেই তাড়াহুড়ো করে বাসা থেকে বেরিয়ে এলো নীহারিকা, সংক্ষেপে নীহা। রাস্তায় নেমে ঘড়ির দিকে তাকালো, পাঁচটা বাজে, রাস্তায় জ্যাম না থাকলে ইফতারের আগেই রিজন কাকার বাসায় পৌঁছে যেতে পারবে।

নীহা একটা সিএনজি ডেকে উঠে পড়ল। সিএনজি যখন ঢাকার ব্যস্ত রাস্তা ধরে ছুটছে, নীহা কাল থেকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো চিন্তা করতে লাগল। রিজন কাকা তার দূর সম্পর্কের কাকা। কাকা উত্তরায় নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন, নীহা সেখানে আগে যায় নি। কালকে রাতে ফোন দিয়ে নীহাদের ইফতারের দাওয়াত দিয়েছেন হুট করে। কিন্তু হঠাৎ করে বাবার শরীর খারাপ হয়ে যাওয়ায় বাবা-মা আসতে পারলেন না। অগত্যা তাকে একাই আসতে হলো৷

জ্যাম ছেড়েছে, এখন ৬:১০ বাজে। আরো ১৫/২০ মিনিটের রাস্তা বাকি। ইফতারের আগে পৌঁছুতে পারবে কিনা এ নিয়ে টেনশন করতে করতে যখন বাসা খুঁজে পেল তখন ৬:৩০। কে. আর. সোসাইটি নামের বিশাল বিল্ডিংটায় তাড়াহুড়ো করে ঢুকে গেল নীহা। কোনো গেটম্যান দেখা গেল না, ইফতার করছে মনে হয়।

এলিভেটরের কাছে এসে সে দুটো এলিভেটর দেখল। বেশি না ভেবে সে প্রথম এলিভেটরেই উঠে পড়ল। কাকার বাসা ১৬ তলায়, তারমানে লিফটের ১৫। এলিভেটরের ঘড়ির দিকে তাকালো সে, ৬:৩৩! সে বাটনে ক্লিক করল। লিফট ওপরে উঠতে শুরু করলে নীহা আশ্চর্য হলো। এত দ্রুত কিভাবে চলছে এই লিফট! লাল ফ্লোর নাম্বার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। ১,২,৩…..১৫! কিন্তু না! লিফট থামল না ১৫ তলায়। আরো ওপরে উঠতে লাগল। ২২ তলা বিল্ডিংয়ের ২২ তলায় উঠে এলো। আবার একই গতিতে নিচে নামতে শুরু করল। ২২,২১,২০…..১, G! আবার ওপরে, আবার নিচে! এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করল নীহাকে। দ্রুত সে লিফটের ফ্লোর বাটন গুলোতে ক্লিক করতে লাগল। ডোর ওপেন, ডোর অফ, সব বাটনে ক্লিক করল, ইমারজেন্সি বাটনেও! কিন্তু না! কোনো বাটনই কাজ করছে না! অসংখ্য বার তুমুল বেগে ওঠানামা করছে এলিভেটর। কয়েক মিনিট পার হয়ে গেছে। কিন্তু এ কী! ঘড়ির দিকে তাকিয়েই আঁতকে উঠল নীহা, ৬:৩৩! তার গলা চিড়ে বেরিয়ে এলো এক হিম শীতল চিৎকার, কিন্তু তা কারোর কানে গেল না।

রাতে রিজন কাকা নীহার বাবাকে কল করে নীহার খোঁজ নিলেন। কেনো এলো না জানতে। নীহার বাবা-মা যেন আকাশ থেকে পড়ল! নীহা যায় নি! নীহা তো বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল যাওয়ার জন্য, কী হলো মেয়েটার! রিজন কাকা প্রথম এলিভেটরেই নিচে নেমে এলেন, দারোয়ানকে জিজ্ঞাসা করতে, দারোয়ান জানালো কোনো মেয়ে আসে নি।

কয়েক মাস পর…..

আবিরের মা পুরোনো খবরের কাগজ দিয়ে একটা বক্স মোড়াচ্ছে। একটা খবরে তার চোখ আটকে গেল হঠাৎ….”এলিভেটর লাগাতে গিয়ে কে. আর. সোসাইটির শ্রমিক নিহত। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬:৩৩ নাগাদ……” আবিরের কথায় বাকিটা আর পড়া হলো না।

“মা, আমি জারিফের বাসায় গেলাম”

বেরিয়ে এলো আবির। গন্তব্য কে. আর সোসাইটি। যখন সে প্রথম এলিভেটরের সামনে এসে দাঁড়ালো তখন ৬:৩২। ইশ! ৬:৩০ এ আসতে বলেছিল জারিফ। দেরি হয়ে গেল কয়েক মিনিট! ঢুকে গেল সে, ১২ তলায় যাওয়ার জন্য বাটন চাপল। চলতে শুরু করল এলিভেটর, মাথার উপরে তাকাতেই উজ্জ্বল লাল লেখাটা চোখে পড়ল, ৬:৩৩!!!

 পাঠকদের জন্য সুখবর!

অনলাইনে ডিজিটাল বাংলা  কমিক্স পড়ুন
ফ্রি-তে!

সদস্য রেজিস্ট্রেশন
close-link