“মামা ওঠো না! মামা ওঠো না! আর কতো ঘুমাবে? ওঠো না!” 

তুনি তার মামাকে ডাকছে। “তোমার না আমাকে গল্প বলার কথা? জলদি ওঠো।” 

এমন সময় দেখা গেল তুনির মাকে। 

“আহ তুনি! তোর মামাকে জ্বালাস না। বেচারা এতো জার্নি করে আসলো। 

এতক্ষনে তুনির মামা তুনির অত্যাচারে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। 

থাক না আপা, ওকে আর বকো না। ওকে তো আমিই কথা দিয়েছি যে ওকে আমি গল্প বলব। এখন যদি পড়ে পড়ে ঘুমাই তাহলে কি আর ওর ভালো লাগবে?” বলে তুনির দিকে তাকালেন, তুই একটু বোস, আমি ফ্রেশ হয়ে আসি। তারপর তোকে গল্প শোনাবো। 

মামা ফ্রেশ হয়ে আসার পর তুনি বলল, “মামা সত্যি গল্প হতে হবে কিন্তু। আমি মিথ্যা গল্প হলে শুনব না। তখন তোমাকে আরও দুটা গল্প এক্সট্রা বলতে হবে। তখন কিন্তু না করতে পারবে না। 

মামা বললেন, “ঠিক আছে বাবা! ঠিক আছে! তোকে আজ এমন গল্প শোনাবো যে শুনে তোর আক্কেল গুড়ুম হয়ে যাবে। আর এ গল্পের একশ ভাগই সত্যি।” তারপর তিনি গল্প শুরু করলেন… 

 

আমি তখন কলেজ স্টুডেন্ট। হোস্টেলে থাকি। একদিন খুব রাত জেগে পড়াশোনা করছি। আমার রুমমেট গিয়েছিলো তার বাড়িতে। আমি সেদিন আমার রুমে একা। পড়াশোনা করতে আমার এমনিতে ভালো লাগে না। কিন্তু কয়েকদিন পর একটা অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে। তাই রাত জেগে প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম। সত্যি বলতে কি সেদিন রাত জাগতে বেশ ভালই লাগছিলো। ঘরের টিউব লাইট টা জ্বালিয়ে পড়ছিলাম। হঠা লোডশেডিং হয়ে গেল। এজন্য টেবিল ল্যাম্প টা জ্বালিয়ে পড়ছি। হঠা কিছুক্ষন পর সেটাও নিভে গেল। আমার মনটাও খারাপ হয়ে গেল। আজই পড়তে ভালো লাগছিলো আর আজই এই অবস্থা। আমি আর কি করি, গেলাম বিছানায় শুতে। ঘুম ও আসছিল না, তাই এপাশ ওপাশ করছিলাম। হঠা কেমন যেন ঠাণ্ডা অনুভব করলাম। তবে পুরো শরীরে নয়। পা, কান ও ঘাড়ের মাঝামাঝি কোথাও আর কোমরে। যেন বরফ বেঁধে শুয়েছি। কি হল ব্যাপারটা সেটা বুঝতে সোজা হয়ে বসলাম। সোজা হয়ে বসতেই দেখি, তিনটে ছোট ছোট বাচ্চা আমার বিছানায় বসে আছে। তবে ঠিক বাচ্চাও নয়। অনেকটা ছোটবেলার কার্টুনে দেখা ক্যাসপার এর মতো। আমি তো দেখেই বিছানায় বসা অবস্থা থেকে হুড়মুড় করে দাঁড়িয়ে গেলাম। দাঁড়িয়ে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমার বিছানায় বসে থাকা তিনটে বাচ্চাকে দেখতে লাগলাম। তিনটেই প্রায় একই রকম দেখতে। 

তিনটের মধ্যে যেটা মাঝখানে বসে ছিল, সেটা হঠা বলে উঠলো, “আপনি কি ভয় পেয়েছেন?” আমার তখন কিছু বলার অবস্থা নেই। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। এবার বাঁ পাশে বসে থাকা টা বলল, “আমরা কিন্তু আপনাকে ভয় দেখাতে চাই নি।” আমি নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বললাম, “আমি ভয় পাই নি। তোমরা কারা? এখানে কি করছ? আমার ঘরে ঢুকলে কি করে?” এবারে তিনটাই একসাথে বলল, “আমরা হলাম কুসি জাতি। ভূতেদের জাতের মধ্যে সবচেয়ে সভ্য। আমরা কাউকে কোনদিন ভয় দেখাই না।” তারপর একটু কেশে নিয়ে আবার বলল, “আমরা গবেষক। মানুষ কেন আমাদের ভয় পায় সেটা নিয়ে আমরা গবেষণা করি। এই গবেষণায় আমাদের আপনার সাহায্য প্রয়োজন। 

আমার তখন চক্ষু ছানাবড়া অবস্থা। এগুলো বলে কী! নিজের চোখ ও কান কে বিশ্বাস করতে পারছি না। মনে হচ্ছে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এতো রাত করে জেগে থাকা উচিৎ হয়নি। এই সব চিন্তা করছি হঠা ডান পাশেরটা বলে উঠলো, “আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে ভয়ানক ভয় পেয়েছেন। আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আপনি রাজি থাকলে আমরা তিনজন আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই। আপনি সেগুলোর উত্তর দিলে আমাদের খুবই উপকার হয় 

আমি তখন বললাম, “তোমরা যেই হওনা কেন, এবং যে কারণেই আসনা কেন তোমরা চলে যাও। তোমাদের দেখে আমার কেমন যেন অসুস্থ লাগছে। 

এবারে মাঝখানের টা বলল, “আমরা আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব। আপনি তার উত্তর দিন, তাহলেই আমরা চলে যাবো। আমরা আসলে আমাদের গবেষণার সাহায্যের জন্যই আপনার কাছে এসেছি। আমরা জানতে পেরেছি যে, অন্য সব মানুষেরা আমাদেরকে না দেখলেও, আপনি দেখতে পান। তাই প্লিজ আমাদের সাহায্য করুন। 

“তাহলেই তোমরা চলে যাবে?” 

“হ্যাঁআপনার নাম তো বোধহয় রাজু।  

“হ্যাঁ, যা বলার তাড়াতাড়ি বল। 

“আমাদের প্রথম প্রশ্ন হল, আপনি প্রথমে আমাদের দেখে ভয় পেয়েছিলেন কেন?” 

তোমরা তো বলেছিলে তোমরা ভূত, তাহলে ভুত দেখলে ভয় পাব না তো কি করব?” 

“আমরা যে ভূত সেটা বলার আগেই তো আপনি ভয় পেয়েছিলেন। আর তাছাড়া আমরা অন্যান্য ভূতেদের মতো নই। আমাদের দেখতেও তাদের মতো না। তাহলে এখন বলুন তো আপনি ভয় পেয়েছিলেন কেন?” 

অস্বাভাবিক কিছু হতে দেখলে ভয় পাব না তো কী করব।।  

ঠিক আছে! ঠিক আছে! আমাদের দ্বিতীয় প্রশ্ন হল, আপনি আর কীসে কীসে ভয় পান?””” 

“সবগুলো বলতে পারব না, তবে ছোটবেলায় মাকড়শা দেখে ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। সেই থেকে মাকড়শা নাম শুনলেও গায়ে কাঁটা দেয়। তবে স্পাইডার-ম্যান খুব ভালো লাগে। 

“আপনি কি এর আগে কখনও আমাদের মতো কাউকে দেখেছিলেন?” 

“না, দেখিনি। 

“আমাদের দেখে মাথায় প্রথম কী ভাবনা এসেছিলো?” 

“নিজেকে আর একটু হলেই পাগল বলে ভাবতাম। মনে হচ্ছিলো অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা করতে করতে হ্যালুসিনেশান দেখছি।” 

“আমরা যখন আপনার বিছানায় বসে ছিলাম তখন কি আপনার কোন কিছু অনুভূত হয়েছিল?’ 

“তা আর বলতে! মনে হচ্ছিলো কেউ শরীরে বরফ ঘষে দিচ্ছে।” 

“ভূত শব্দটা শুনলেই আপনার প্রথমে কী মনে হয়?” 

“ভয়!” 

“কেন?” 

“ছোটবেলায় বড়দের কাছে অনেক ভূতের গল্প শুনেছি। নানা ধরনের গল্প শুনে রাতে আমি ঘর থেকে বেরুতে পারতাম না। যদিও তোমরা তেমন ভয়ংকর নও।” 

“ঠিক আছে, আপাতত এতেই হবে। ভোর হয়ে যাচ্ছে তো, আমরা যাই। আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগলো। ভোরের আলতে আপনি আমাদের দেখতে পান না। এর আগে যখন সকাল বেলা এসেছিলাম, আপনি আমাদের দেখতে পাননি, কথাও শুনতে পাননি। পরে দরকার হলে আবার আসব, এবার যাই। 

সাথে সাথেই ঐ তিনটেকে আর দেখতে পেলাম না। ওরা চলে যেতেই ঘরের টিউব লাইট ও টেবিল ল্যাম্পটা আবার জ্বলে উঠলো। আমি তখনও বিছানার কাছেই দাঁড়িয়ে আছি। যা ঘটলো সেটা কে এখন পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।  

 

গল্প বলার এই মুহূর্তে তুনির মা ঢুকলেন ঘরে। তাঁর হাতে চা। ঢুকেই তুনিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুনি? কীসের গল্প শুনছিিস রে?” তুনি বলল, “মামা যখন হোস্টেল এ ছিল তখন নাকি ভূত দেখেছে। তিনটা একসাথে দেখেছে। মা, আমাকে কখনও হোস্টেলে দিয়ো না।” তুনির মা অবাক হয়ে রাজুকে বললেন, “তুই আবার হোস্টেলে কবে ছিলি? তোর পড়াশোনা তো বাড়িতে থেকেই করেছিস। হোস্টেলে তো যাসনি!” তুনি সন্দেহের চোখে মামার দিকে তাকিয়ে আছে। মামা বলে উঠলো, “উফ আপা! তোমার এখনি একথা বলতে হল? এখন তো ও বুঝেই গেল যে, ওকে আমি বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছিলাম। এখন আর এক্সট্রা গল্প বলতে পারব না বলে দিচ্ছি। 

তুনি গাল ফুলিয়ে বসে আছে। 

 পাঠকদের জন্য সুখবর!

অনলাইনে ডিজিটাল বাংলা  কমিক্স পড়ুন
ফ্রি-তে!

সদস্য রেজিস্ট্রেশন
close-link