[আমিনা, করিম, রবিন ওরা সেভেনে পরে আর ওদের ডিটেকটিভ বিষয়ে আগ্রহ সবসময়েই বেশি। আমিনা করিম সকালের পত্রিকা আসতেই দৌড় দিল,কে কার আগে গিয়ে ধরবে ! অবশেষে করিম ধরতে পারল আজকে।নিয়েই বসে পড়ল পড়তে।] 

আমিনা: আরে একটা পাতা দে। তুই সব একসাথে পড়ছিস না…দে বলছি…! 

করিম: না আমি জিতেছি আজকে আমি আগে । তুই স্কুল থেকে এসে পড়িস। 

আমিনা: মা…মা !!! করিম আমাকে েকটা পেপার ও দিচ্ছেনা । 

মা : রোজ রোজ আর এসব ভালো লাগে না। খেতে আয়।দেরি হয়ে যাবে পরে ক্লাসের। 

করিম: আসছি মা! 

[এরপর খেতে চলে গেল] 

[ক্লাসের জন্য বের হয়ে তারা হাটতে হাটতে কথা বলতে লাগল।] 

করিম: আজকের পেপারে একটা খবর দেখলাম ! 

আমিনা: তুই তো দেখবি,আমাকে দেখতে দিলি? বল কি দেখলি? 

করিম: এক বিদেশী ভদ্র মহিলা নিখোজ। তাকে শেষবারের মতো দেখা দিয়েছিল দিন তিনেক আগে,পুরান ঢাকায়। 

আমিনা : এতো সাংঘাতিক ব্যাপার ! ৩ দিন হলো এখনো দের হদিস পেলো না? 

করিম : আমার কেমন জানি একটা বিষয় মিলাতে পরচ্ছিনা!! উনাকে কেনো কেও কেন কি কিডনাপ করবে? কিছু বুঝলাম না ! 

আমিনা: আমি বুঝলাম না উনি যদি বিদেশি হন কে উনাকে চেনে ? আর কে উনাকে কিডনাপ করলো? 

করিম : আমি ও বুঝলাম না ,আগে শুনতাম বাচ্চাদের কিডনাপ হয়! মা আমাদের সাবধান থাকতে বলত!এখন তো দেখছি কেও ই নিরাপদ না! 

আমিনা: হুম । আচ্ছা এখন চল ,ক্লাসের দেরি হয়ে যাচ্ছে। 

[তারা ক্লাসে গেলো। ক্লাসে বন্ধুদের সাথে টিফিনের সময়।] 

রবিন: সামনেই পরীক্ষা …ভাবতেও ভয় লাগছে। 

আমিনা: এই বারের সিলেবাসটা ও কম বড় না ! সমাজের কথা ভাবতে পারি না !  

করিম : আমি এতো টেনশন নেই না ! হবে একটা ! আমার প্রিয় সাবজেক্ট অংক ! এটায় ভালো করলেই আমি খুশি ! 

রবিন : আমার জেনারেল নলেজ নিয়ে পড়তে ভালো লাগে।  

আমিনা : আচ্ছা একটা খবর পড়েছিস আজ,রবিন? 

রবিন: কোনটা?  

আমিনা: এক বিদেশি মহিলা নিখোজ? 

রবিন : হুম পড়েছি।আরো জানিস?ওই ভদ্র মহিলা একজন ফোটোগ্রাফার ছিলেন। 

করিম : তাই নাকি ? তাইলেতো আরো অদ্ভুত ! উনাকে কেন … 

রবিন: আমি ও বুঝলাম না! 

[টিফিনের ঘন্টা । সবাই আবার ক্লাসে] 

[ক্লাস শেষে সবাই বাসায় যাচ্ছে] 

করিম: এই কাল সবাই মিলে চল ঝালমুরি খাই। 

রবিন: আচ্ছা ১০টাকা নিয়ে আসবো। 

আমিনা: খাওয়া যাব অনেকদিন হলো খাইনা ! 

[সমানে কিছু দুরে একটা গাড়ি থামলো।কেও একজন গাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের চায়ের দোকানে কিছু জিজ্ঞাস করলো।তারপর আবার গাড়িটা টান দিল।] 

করিম: [একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর] এই এই দেখ … 

আমিনা : কি..দেখবো? 

করিম: গাড়ি টা???? 

রবিন: কেন? তুই কি আগে দেখিস নি? 

করিম: আরে..ফাজলামো করিস না! আমি গাড়িতে একজন ফর্সা করে মহিলাকে দেখলাম। যার মুখটা দেখতে পারলাম না।কিন্তু মহিলাটি ঘুমিয়ে আছে যা দেখলাম। 

আমিনা: [গাড়িটার শেষঅব্দি দেখতে থাকলো।]আমি খেয়ালই করলাম না। 

রবিন: তো কি হয়েছে এতে?আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না তোরা এমন কেন করছিস? 

করিম: বলছি এক্টু সময় দে আমাকে।[বলে দৌড়ে গেল চায়ের দোকানটায়] 

করিম: চাচা কি জিজ্ঞাসা করলো আপনাকে? 

চায়ের দোকানের চাচা:  তেমন কিসু না … জিগাইতেসিল,সারেং ঘাটটা কোন দিকে। 

করিম : আচ্ছা চাচা। 

[বলে আবার তারা হাটা শুরু করলো এসে ওদের সাথে।] 

আমিনা: কিছু জানতে পারলি? 

করিম: নাহহহ ! 

রবিন: আমাকে বলবি?কি করছিস তোরা? 

আমিনা: সকালে যে খবরটা দেখলাম সেটাই মিলাতে চাইছে করিম। 

রবিন: তা এখন কি করতে চাস? 

করিম: বুঝতে পারছিনা ,কি করা উচিত। 

আমিনা: কোনো প্রমান ও নেই যা নিয়ে কাওকে কমপ্লেন করব। 

রবিন: ডিটেই ও জানি না! 

করিম: জানতে কতক্ষন? 

আমিনা: তার মানে তুই টারেস্টেড? 

করিম: [হাসি দিয়ে] বুঝতেই তো পেরেছিস।আমার কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছে।এটা নিয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারবো না। 

আমিনা: গাড়ির নাম্বার টা লিখে রাখ পরে ভুলে যেতে পারি। “১২৪৫৬৭-বি-৭,ঢাকা মেট্রো’’  

করিম:[ দ্রুত একটা খাতা বের করে লিখা রাখল।] বাহ ! মনে রেখরছিস তাইলে!তাইলে আজ বাসায় চল। আর রবিন তোর কাজ তুই তো জানিস ! সব ডিটেইলের দায়িত্ব কিন্তু তোর।আর দেরি করাও ঠিক হবে না। 

আমিনা: হুম কারো জীবনের মূল্য অনেক বেশি।পুলিশ তাদের মতো কাজ করুক আর আমরা আমাদের মতো । 

রবিন: কালকে সব পেয়ে যাবি। তাইলে আমি চললাম কাল দেখা হচ্ছে 

করিম: আর কাল ক্লাসে একটু আগে বের হবি। কথা বলবো। 

রবিন: ঠিক আছে।আমি চললাম। 

[যে যার বাসায় চলে গেল] 

করিম: কি দেখছিস পত্রিকায়? 

আমিনা: আমি ওই আরর্টিকালটাই পড়ছিলাম।পুরোটা না জেনে কাজ কি করে করবো? 

করিম: কি কি পেলি? 

আমিনা: এখানে লেখা আছে,প্রতিদিনের মতো ওরা বের ভদ্র মহিলা বের হয়েছিল বাসা থেকে কাজে,কিন্তু বাড়ি ফেরেননি। ২ দিন পর প্রতিবেশিরা তা খেয়াল করেন ও পুলিশ কে জানান।পুলিশ ও খোজ করছেন। 

করিম: হুম…বিষয়টা এতো সহজ হবেনা রে …তাই মনে হচ্ছে। 

আমিনা: কেন? কিডনাপিং কেইস..! তাই না? 

করিম: একদম। বড় কেও সাথে থাকলে ভালো হতো না? 

আমিনা: মাকে বললে কাজ এখানেই শেষ। কাজটা শেষ করে মাকে বলবো। বাবাকে বলবো? 

করিম: না না সামনে পরীক্ষা বাবা ও সাহায্য করবে বলে মনে হয় না। 

আমিনা : তাইলে…[কিছুক্ষন চিন্তা করে] রবিন ভাই ! রনি ভাইয়া । 

করিম: ওর টপার ভাই? ম্যাথ ডিপার্টমেন্ট? ভাইকে মেনেজ করার দায়িত্ব ও দেবো রবিনকে ,কারন আমরা বললে না ও শুনতে পারে। উনি তো উনিই…! 

আমিনা: কমিশান চাইবেন ![হাসতে হাসতে ] সাহায্যের জন্য!!! 

করিম: তা আর বলতে ! 

আমিনা: আর একটা কথা ,এটা যা পড়ে বুঝলাম , উনি ৭ বছর ধরে এখানেই আছেন।ওই বাসাতেই।প্রথমে একটা বিদেশি স্কুলে চাকুরি করতেন।পরে একটা সংবাদপত্রে চিত্র গ্রহনের কাজ শুরু করেন। 

করিম: বেশ কিছু জেনে গেছিস।আজ থাক আর লোড নিতে পারছি না। কাল বাকিটা রবিন বলবে ! 

[করিম ঘুমাতে চলে গেলো। আর আমিনা পুরোটা পড়তে থাকলো।] 

[পরদিন সকালে।স্কুলের পথে যেতে যেতে।] 

রবিন: অনেক কিছু জোগার হয়ে গেসে ,বন্ধুরা ! 

করিম: শুনছি তো ! বলতে থাক । 

রবিন: মহিলার নাম ‘লিনা  ক্রোজেন’। উনি জার্মানে থাকতেন।একজন বাংলাদেশিকে বিয়ে করেন। এর পর থেকে এখানেই। কিন্তু পরে উনারা ২ জন আলাদা হয়ে যায় ও উনি একাই ওই বাসায় থাকতেন। উনি রিপোর্টের ফোটোগ্রাফি করতেন। 

আমিনা: হুম বেশ ! আমিও কিছু জোগার করেছি তথ্য।তাইলে কাজ শুরু করা যাক। কিন্তু আরেকটা কাজ আছে তোর ! 

রবিন: আবার কি? 

করিম: দেখ তুই যে ভাবেই পারিস, রনি ভাইকে রাজি করাবি আমাদের সাথে থাকতে।কারন আমরা সবাই এতো বড় ও হইনি। এবারের কেইসটা এতো সহজ ও বলে মনে হচ্ছে না ! 

রবিন : আমি ! ওহ নো ! নো ওওয়ে ! আমি কালকে ভাইয়ার কম্পাস হারিয়ে বাসায় ডুকেছিলাম।এরপর গেলে আমাকে আস্ত আখবে না !আমি নেই ! অন্য কাওকে দেখ। 

করিম: আর কেও নেই..তুই যাবি ।সবাই মিলে যাবো ,তোর ভয় কম লাগবে।[হাসতে হাসতে] 

[বলেই জোরে হাটা শুরু করলো রবিন ওদের রেখে স্কুলের দিকে।] 

আমিন: আমি আর হাসতে পারবো না ! রবিন পুরাই জোকার একটা । আস্তে যা…সামনে গাড়ি আছে রবিন। 

[সবাই ক্লাস করলো।ক্লাস শেষে করিম রবিনের গলা ধরে] 

করিম: চল ভাই আর না না করিস না ভাই্য়াকে রাজি করানোই লাগবে। 

[রবিন কিছুক্ষন হাত পা ছুরাছুরি করে থেমে গেলো] 

[রবিনদের বাসায়। ভাইয়ার দরজায় টোকা দিয়ে] 

রনি: কে ?  

আমিনা: ভাইয়া আমরা! 

রনি: ভেতরে আয়। 

রবিন: আমরা একটা কেস নিয়ে কাজ করবো ভেভেছি। আর বড় কেও নেই যে সাহায্য করবে,তাই তোমার কাছে এসেছে ওরা। 

রনি: তুই কথাই বলবিনা । মাকে বলবো? সামনে আমার সেমিসটার ফাইনাল ! 

করিম: ভাইয়া না না ! আমাদের সবার ই এটা রিকোয়েস্ট ছিলো। ভাই্য়া থাকেন না …. ! 

রনি : এতো করে বলছিস যখন … ভেবে বলব। 

আমিনা: দেরি হয়ে যাবে ভাইয়া…একজন মানুষের জীবন ফিরেও না পেতে পারি ! 

রনি : কি বলছিস এসব?কাহিনী কি?সব খুলে বল। 

[সবাই যে যা জানে তা বলল। ] 

রনি: এখন কোথা থেকে শুরু করতে চাস?কাকে সন্দেহ করছিস? 

করিম: উনার হাসবেন্ড? উনি  কিছু করেনি তো? 

রনি : দাঁড়া। দেখি উনার কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা![অনেকক্ষণ নেট ঘেটে] সম্ভবনা নেই কারন উনি জার্মানে আছেন ৪ বছর ধরে। উনি রিসার্চার হিসেবে আছেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।উনার মতো মানুষ আএসব কাজ করবেন বলে মনে হয় না । 

করিম: তাইলে? আচ্ছা উনার লাস্ট ক’দিনের কিছু আপডেট জানা লাগবে। উনি কোথায় যান ,কখন কি করেতেন,এইসব। 

আমিনা: উনি একটি সংবাদপত্রিকায় কাজ করতেন। ‘এবেলা-সেবেলা দৈনিক সংবাদপত্র’। ওখানে গেলে কিছু জানা যেতে পারে। 

রনি : [ঘড়ির দিক তাকিয়ে।] বেশি তো বাজেনা । বেলা ১ টা । এখনি চল। লান্ঞের পর কাথা বলতে পারবো। 

[সবাই উঠে দারিয়ে পরলো] 

করিম: তাইলে চলো। 

[সবাই বেরিয়ে পরলো।] 

[অফিসটায় ডুকলো।আশেপাশে তাকাতে লাগলো সবাই।] 

আমিনা: ডানের কর্নারের টেবিলে ‘লিনা ক্রোজেন ’ লেখা ।উনি নিশ্চই ওখানে বসতেন। [আর উনার পাশের টেবিলে একটি মেয়ে বসা ]উনার সাথে কথা বলতে পারি আমরা। 

রনি: হুম,চল। 

[সবাই এগিয়ে গেল।তারপর জিজ্ঞাসা করতে লাগলো] 

আমিনা: আপু আমরা ‘লিনা ক্রোজেনের ’ সম্পর্কে জানতে চাইছিলাম।আপনি কি হেল্প করবেন আমাদের? 

রিটা: আমি রিটা।আমি আর লিনা ক্রোজেন এক ই সাথে কাজ করতাম।সব ঠিক ছিল ।একদিন লিনা ক্রোজেন একাই গেলেন নারিনদার রোড এক্সিডেনটের রিপোর্টের ছবি তুলতে।আমি অসুস্থ ছিলাম।কথা ছিলো ও ছবিগুলো তুলে আনলে আমি এডিটের কাজ করে দেবো।রিপোর্টের ছবি তোলা শেষ করে  কথা বলতে যান যে ছেলেটি মারা যায় তার বন্ধুর সাথে। সেখানে আড়াল থেকে শুনতে পান কিছু আজব তথ্য।যা ভাবতেও পারিনি আমরা কেও। ছেলেটির কিছু বন্ধু মিলে তার গাড়িটিকে খাদে ফেলে দেয়। যার ছবি ও রেকর্ডিং কোনো প্রমান পাওয়া যায় নি।  সেটা অফিসে বলে রাতে চলে যায় এখান থেকে কিম্তি আর বাড়ি ফিরতে পারেনি।  

[বলতে বলতে রিটার চোখে জল চলে এলো] 

করিম: কোথা থেকে কি হলো। কি ভাবলাম আর কি হলো। 

রনি: এখন কথা হলো খুন নাকি এক্সিডেন্ট? লিনা ক্রোজেন কে যেভাবেই হোক তাড়াতাড়ি বাচাতে হবে। 

আমেনা: ওই দিন ওই লোকগুলো সারেং ঘাট খুজছিলো।ওখানেও নিতে পারে। 

রবিন: হুম হতেই পারে। 

রনি : চিনিস তোরা ?তাইলে চল। দেরি করে কি লাভ? 

আমিনা: আসল যে তার চেহারাই চিনি না। আচ্ছা রিটা আপু আমাদের কে ক্লু দিতে পারবেন? 

রনি: আর আপনাকেও তৈরি থাকতে হবে।প্রমান লাগতে পারে। 

রিটা : নিশ্চই আমি যাবো। 

[বেরিয়ে পরলো।সারেং ঘাট পৌছে গেলো।] 

আমিনা:[এক মাঝিকে প্রশ্ন করলো] মাঝি ভাই এই দিকে কোনো বিদেশিকে যেতে দেখেছেন? 

মাঝিভাই: নাতো ,দেখিনি। 

একজন জেলে:  [পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কথা শুনে দাড়িয়ে] আপনারা আমার সাথে আসুন। 

করিম: কে আপনি? আপনি কি করে জানেন আমরা কোথায় যাবো? 

জেলে: চলেন আগে,গেলেই দেখবেন। 

[তারা তাকে অনুসরন করে যেতে থাকলো। একটা অন্ধকার পথ দিয়ে যেতে হচ্ছিল তাদের।মাঝ্ পথেই জেলে তাদের থমিয়ে দিয়ে ডানে গেলো ,একটা  জানালা,সামান্য আলো আসে।] 

জেলে: এদিকে আসুন ,দেখুন উনি কিনা? 

করিম: [দৌড়ে গেলো,দেখলো লিনা ক্রোজেন। একটা খালি আবদ্ধ ঘড়ে আটকে রেখেছে তাকে।উনি মাটিতে গড়িয়ে পরে আছেন।] 

আমেনা: কিছু বলবি তো কি হলো? 

জেলে : আস্তে কথা বলুন,ওরা শুনতে পারলে মেরে ফেলে যাবে। 

[পরিবেশটা থমথমে হয়ে গেলো।] 

রনি: কোনোভাবে ভেতরে যাওয়ার উপায় নেই? 

জেলে:এখানে কেন আইসেন? কিসু জানেন? বাচতে বাইলে চইলা যান।  উনারে উপরওয়ালার কাছে ছাইড়া দেন।  

আমিনা: কেন? কি এখানে? 

জেলে: এই ঘরে কেও যায় না। কি আসে জানি না। অনেক আগের কথা। একবার একজনকে জমিদার আটকায় রাখসিলো তারপরে হের আর এই রুমে পাওয়া যায় নাই। কোথায় গেসে, কি হইসে কেও আজ ওব্দি কইতে পারে নাই।  

রাবিন: তাই বলে তো দাড়িয়ে থাকবো না। এসব কখনো হয়? 

জেলে: আপনারা আজাকালকার পোনাপান, কিসুই বিশ্বাস করেন না। আমি গেলাম। আপনারা ভালো চাইলে চলেন। 

আমিনা: বেলা বাড়ছে.. কি করবি? [ঘরের জানালাগুলো আটকে গেলো। ওরা ও থমকে উঠলো।] 

রনি: কি হলো?  

[লিনা ক্রোজেনের আওয়াজ আসতে লাগলো। আকাশ কালো হয়ে উঠলো। আশপাশ পুরো জনশুন্য। কিছুক্ষন পর আওয়াজ থেমে গেলো।] 

করিম: এটা কি হচ্ছে? ভেতরে কেও আছেন? লিনা ক্রোজেন আপনি ঠিক আছেন? 

[কোনো শব্দই এলো না। জানালা খোলার আওয়াজ এলো। আর ওরা দৌড়ে গেলো জানালার পাশে] 

লিনা ক্রোজেন: [জানালার গ্রিলটা কষ্টে ধরে….] তোমাদেরকেও ওরা নিয়ে এসেছে? তোমরা চলে যাও না হয়.. 

আমিনা: আপনি হাপাচ্ছেন কেন? কি হয়েছে? কারা ধরে এনেছে আপনাকে? আপনি কি বলছেন এসব? 

লিনা ক্রোজেন: এত কিছু বলার সময় নেই। আমি ওই দিনের এক্সিডেন্টটা নিয়ে সব বুঝে গেছিলাম। ওই রোডের ঠিক ওই জায়গায় আরো ৩টি  এক্সিডেন্ট হয়েছিল। আমি সব রিসার্চ করে বুঝতে পারলাম এটা ইচ্ছাকৃত এক্সিডেন্ট। কোনো একটা কিছু অদৃশ্য বার বার এটা করছে। হ্যা…. আমিও তোমাদের মতো প্রথম বুঝতে পেরে অবাক হয়েছিলাম…পরে আমি নিজেই গেলাম আবর ওই রোডের ঠিক ওই জায়গায়। আমি অনেকের সাথে কথে বলেছিলাম। ওই রোডের নির্জন জায়গায় যারা গেছে তারাই মরেছে। সবার একই কাহিনী ছিল। সবাই দেখতো তার গাড়ির সামনে কিছু পড়েছে। আর গারি থেকে বের হয়ে যেই বের হতো কিন্তু কিছু দেখতে পায় নি। কোনো প্রমান ও পায়নি কেও। এরপর গাড়ির মালিক গাড়িতে বাসেই আগের মতো চালিয়েছিল কিন্তু গাড়ি কোনো কারন ছাড়াই ব্রেকফেল করে হয়তো সামনে ব্রীজ ভেঙে পরেছে না হয় অন্য গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট। আমি গিয়েছিলাম পায়ে হেটে। দূরে রিক্সা দার করিয়ে। আমি চলে এসেছিলাম। তারপর ছিল আমার পালা। আমি বুঝে গিয়েছিলাম আর কারন খুজছিলাম। আমাকে আটকাতে আমাকে অইদিন রাতেই অফিসের সিড়ি দিয়ে নামছিলাম। সব লাইট অফ হয়ে গেলো আর আমি মোবাইল বের করতে করতে যা বুঝলাম আমার পেছনে কেও আছে। আর পর আমি  কিছু জানি না । আমি এখানে। এক অদৃশ্য আত্মা আমাকে আঘাত করেই চলেছে। ….. 

[ওরা অবাক হয়ে সব শুনছিলো। আর ভয়ে কাপছিলো। ] 

রনি: কি করবো বুঝতে পারছি না…দাড়ান, করিম আপনাকে গাড়িতে দেখেছিলো। তাহলে? আপনি বলছেন যে ওইদিন রাতেই আপাকে কেও নিয়ে এসেছে এখানে…কিছু মিলছেনা। 

লিনা ক্রোজেন: কেনো বুঝতে পারছো না ওরা ছদ্দবেশ ধরেছিলো…শুধু তোমাদের এখানে আনতে। কারন তোমারা আমার খবরটা পেছিলে…সবকিছুই রহস্য… ও কাওকে কিছু বুঝতে দেবে না। তার আগেই শেষ করে……..[বলতে বলতে উনি চিৎকার দিলেন। কালো হাতের মতোন কিছু উনার গলা ধরে টেনে জানালা থেকে সরিয়ে ভেতরে নিয়ে গেছে।] 

[ওরা সবাই ও চিৎকার করে উঠলো। আর পেছনে দৌড়াতে শুরু করলো। সবার আর্তনাদে চারপাশ ভ্য়াকন হয়ে ঊঠলো। ] 

[আজো কেও জানতে পারেনি কেনো এমন হয়েছিল। কে বা কেনো ওই রোডে এমন করতো আর কেন কেও কিছু জানার আগেও তাকে মেরে ফেলা হতো।] 

 পাঠকদের জন্য সুখবর!

অনলাইনে ডিজিটাল বাংলা  কমিক্স পড়ুন
ফ্রি-তে!

সদস্য রেজিস্ট্রেশন
close-link